পরিচিতি

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের জীবন, নেতৃত্ব, জনসেবা ও ঢাকা উত্তর নিয়ে অঙ্গীকার।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন একজন রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সংগঠক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনে তিনি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং নাগরিক অধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় ও নগরভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি নেতৃত্ব, সংগঠন পরিচালনা ও জনসম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

ব্যক্তিগত পরিচিতি

নাম
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
জন্মতারিখ
১ মার্চ ১৯৭৫
জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা
আষ্টঘরী গ্রাম, ১০ নং মুড়িয়া ইউনিয়ন, বিয়ানীবাজার উপজেলা, সিলেট
বর্তমান ঠিকানা
ঢাকা উত্তর, বাংলাদেশ
পিতা
মরহুম আব্দুল গফুর
পিতার পরিচয়
ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সালিশ ব্যক্তিত্ব

শিক্ষাজীবন

সাধারণ শিক্ষা১৯৯৮ - এমএ (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি অর্জন।

দ্বীনি শিক্ষাকামিল ডিগ্রি অর্জন।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সাধারণ ও দ্বীনি উভয় ধারার শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মিডিয়া এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, চেয়ারম্যান ও দায়িত্বশীল হিসেবে কাজ করেন।

ছাত্রজীবন ও নেতৃত্ব

১৯৮৫ - বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান।

১৯৯৫-১৯৯৭ - মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি।

১৯৯৮ - সিলেট জেলা দক্ষিণ সভাপতি।

১৯৯৯-২০০০ - সিলেট শহর শাখার সভাপতি।

২০০১ - ঢাকায় আগমন; কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব।

২০০২ - কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক।

২০০৩ - সেক্রেটারি জেনারেল।

২০০৪-২০০৫ - কেন্দ্রীয় সভাপতি।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকাকালে তিনি ছাত্ররাজনীতিকে সংঘাতনির্ভর ধারার পরিবর্তে ছাত্রকল্যাণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমকেন্দ্রিক করার উদ্যোগ নেন।

প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত ভূমিকা

ছাত্রজীবন ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষা, মিডিয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। দিগন্ত টেলিভিশনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মূলধারার রাজনৈতিক জীবন

৩১ ডিসেম্বর ২০০৫ - বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান।

২০০৮-২০১১ - রমনা থানা আমীর।

২০১২-২০১৬ - অবিভক্ত ঢাকা মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি।

২০১৭-বর্তমান - ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর।

বর্তমান - কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটাধিকার, নাগরিক অধিকার এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তিনি ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য ও সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেছেন।

রাজনৈতিক নিপীড়ন ও কারাবরণ

১৯৯৯ - রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে কারাবরণ।

২০০১ - পুনরায় কারাবরণ।

২০১৩ - গ্রেফতার ও রিমান্ড।

২০২৩ - পুনরায় গ্রেফতার ও রিমান্ডের মুখোমুখি হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গ্রেফতার, কারাবরণ ও রিমান্ডের মুখোমুখি হন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব প্রদান করেন।

জনসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম

রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা এবং নগর উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন।

তার জনসেবামূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

  • অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য ও শীতবস্ত্র বিতরণ
  • শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা-সহায়তা প্রদান
  • বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প ও চিকিৎসা সহায়তা
  • এতিমখানা ও অসহায় পরিবারকে সহায়তা
  • বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম
  • মাদক, জুয়া ও ইভটিজিংবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ
  • পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সচেতনতা কার্যক্রম
  • স্থানীয় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা

ঢাকা উত্তর নিয়ে তাঁর অঙ্গীকার

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, বাসযোগ্য, মানবিক ও আধুনিক ঢাকা উত্তর গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

তার দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে রয়েছে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ জনপরিসর, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়ন এবং জনসম্পৃক্ত প্রশাসন।

তিনি এমন একটি নগরব্যবস্থার পক্ষে কাজ করতে চান, যেখানে নাগরিকদের মতামত, অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।